গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্টবিট আসার লক্ষণ
পেটে হালকা ধুকপুক অনুভূত হলেই অনেকে ভাবেন, হয়তো সেটিই শিশুর হার্টবিট। আবার বমি বমি ভাব বা অন্য কোনো গর্ভাবস্থার লক্ষণ দেখে কেউ কেউ মনে করেন শিশুর হৃদস্পন্দন ঠিক আছে। কিন্তু সত্যিই কি শরীরের এসব পরিবর্তন দেখে বাচ্চার হার্টবিট বোঝা সম্ভব? চলুন এ বিষয় গুলো জেনে নিই।
এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই সাজানো হয়েছে এই আর্টিকেল। সহজ ভাষায় পুরো বিষয়টি জানলে অযথা দুশ্চিন্তা না করে গর্ভাবস্থার এই বিশেষ সময়টিকে আরও সচেতনভাবে উপভোগ করতে পারবেন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্টবিট আসার লক্ষণ
- গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্টবিট আসার লক্ষণ
- বাচ্চার হার্টবিট বলতে কী বোঝায়
- গর্ভাবস্থায় কখন বাচ্চার হার্টবিট দেখা যায়
- বাচ্চার হার্টবিট আসলে মায়ের শরীরে কী লক্ষণ দেখা যায়
- পেটে ধুকপুক করলে কি সেটি বাচ্চার হার্টবিট
- বমি বমি ভাব বা গর্ভাবস্থার লক্ষণ কি হার্টবিটের সঙ্গে সম্পর্কিত
- আল্ট্রাসনোগ্রামে বাচ্চার হার্টবিট কীভাবে বোঝা যায়
- প্রথম আল্ট্রাসনোগ্রামে হার্টবিট না দেখা গেলে কি চিন্তার কারণ
- শিশুর হার্টবিট ঠিক আছে কি না কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়
- গর্ভাবস্থায় কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
- গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্টবিট নিয়ে শেষ কথা
গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্টবিট আসার লক্ষণ
গর্ভাবস্থার খবর জানার পর থেকেই একজন মায়ের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরতে থাকে।
গর্ভের সন্তান ঠিক মতো বেড়ে উঠছে কি না, কখন তার হৃদস্পন্দন শুরু হয় এবং
গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্টবিট আসার লক্ষণ কী এসব নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই কৌতূহল
তৈরি হয়। বিশেষ করে প্রথম বার মা হতে যাওয়া নারীদের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে
আগ্রহ আরও বেশি দেখা যায়।অনেকে পেটে হালকা ধুকপুক অনুভব করে সেটিকে শিশুর
হার্টবিট মনে করেন। আবার বমি বমি ভাব, দুর্বলতা বা স্তনে পরিবর্তনের মতো লক্ষণ
দেখেও কেউ কেউ ধারণা করেন যে শিশুর হৃদস্পন্দন শুরু হয়ে গেছে।
কিন্তু আসলে কি মায়ের শরীরের এসব লক্ষণ দেখে শিশুর হার্টবিট নিশ্চিত হওয়া
যায়?এই লেখায় খুব সহজ ভাষায় জানানো হবে বাচ্চার হার্টবিট কখন শুরু হয়,
মায়ের শরীরে এর কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ থাকে কি না, পেটে ধুকপুক করলে সেটি কী
হতে পারে এবং আল্ট্রাসনোগ্রামে কখন শিশুর হৃদস্পন্দন দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি
হার্টবিট প্রথম পরীক্ষায় দেখা না গেলে কেন সবসময় দুশ্চিন্তার কারণ নয়, সেটিও
জানা যাবে।
বাচ্চার হার্টবিট বলতে কী বোঝায়
বাচ্চা হার্টবিট বলতে গর্ভের ভেতরে বেড়ে ওঠা শিশুর হৃদযন্ত্রের স্পন্দনকে
বোঝানো হয়। গর্ভাবস্থার একেবারে শুরু থেকেই শিশুর শরীরে বিভিন্ন অঙ্গের বিকাশ
ধীরে ধীরে শুরু হয়। হৃদযন্ত্রের বিকাশও সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার একটি
অংশ। অনেক মা হার্টবিট শব্দটি শুনে মনে করেন, এটি এমন কিছু যা হাত দিয়ে পেটের
ওপর থেকে অনুভব করা সম্ভব। আসলে বিষয়টি এমন নয়। গর্ভের শিশুর হৃদস্পন্দন এবং
মায়ের নিজের শরীরে অনুভূত নাড়ির স্পন্দন এক জিনিস নয়।
তাই পেটে কোনো ধরনের ধুকপুক বা স্পন্দন অনুভূত হলেই সেটিকে শিশুর হার্টবিট বলা
ঠিক হবে না। শিশুর হৃদস্পন্দন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ভাবে জানতে চিকিৎসকের
পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে ভালো উপায়।
গর্ভাবস্থায় কখন বাচ্চার হার্টবিট দেখা যায়
গর্ভাবস্থার প্রথম দিকেই শিশুর হৃদযন্ত্রের বিকাশ শুরু হয়। তবে
আল্ট্রাসনোগ্রামে হৃদস্পন্দন কখন শনাক্ত হবে, তা গর্ভাবস্থার সঠিক সময়কাল এবং
কোন ধরনের পরীক্ষা করা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করতে পারে।অনেক ক্ষেত্রে
গর্ভাবস্থার প্রায় ৬ সপ্তাহের আশেপাশে আল্ট্রাসনোগ্রামে হৃদস্পন্দন শনাক্ত করা
যেতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই সময়ে এটি দেখা যাবে এমন কোনো নির্দিষ্ট
নিয়ম নেই।
বিশেষ করে গর্ভাবস্থার হিসাব যদি কয়েক দিন এদিক-সেদিক হয়, তাহলে খুব
তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করলে প্রত্যাশিত সময়ে হৃদস্পন্দন দেখা নাও যেতে পারে। তাই
প্রথম পরীক্ষায় দেখা না গেলে নিজে থেকে খারাপ কিছু ধরে নেওয়া উচিত
নয়।চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট সময় পর আবার আল্ট্রাসনোগ্রাম করার
পরামর্শ দিতে পারেন।
বাচ্চার হার্টবিট আসলে মায়ের শরীরে কী লক্ষণ দেখা যায়
এখানেই অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। শিশুর হার্টবিট শুরু হওয়ার কারণে মায়ের
শরীরে এমন কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না, যার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে বলা
যায় যে শিশুর হার্টবিট শুরু হয়েছে। গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব, বমি, ক্লান্তি,
ঘুম ঘুম ভাব, স্তনে পরিবর্তন, খাবারে অরুচি বা ঘন ঘন প্রস্রাবের মতো লক্ষণ দেখা
দিতে পারে। এগুলো সাধারণত গর্ভাবস্থার হরমোন ও অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তনের
সঙ্গে সম্পর্কিত।
কারও এসব লক্ষণ বেশি হতে পারে, আবার কারও খুব কম হতে পারে। তাই কোনো মায়ের বমি
বেশি হচ্ছে বলে শিশুর হার্টবিট ভালো আছে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। একইভাবে
কোনো উপসর্গ কমে গেলেই শিশুর হার্টবিটে সমস্যা হয়েছে, এমনটিও ধরে নেওয়া ঠিক
নয়।
পেটে ধুকপুক করলে কি সেটি বাচ্চার হার্টবিট
গর্ভাবস্থায় এটি সবচেয়ে বেশি শোনা একটি প্রশ্ন। অনেক মা পেটের ওপর হাত রাখলে
হালকা ধুকপুক বা স্পন্দনের মতো অনুভূতি পান। তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে,
এটি বুঝি গর্ভের শিশুর হৃদস্পন্দন।কিন্তু পেটের ভেতরে অনুভূত এই স্পন্দন অনেক
সময় মায়ের নিজের রক্তনালীর স্পন্দন হতে পারে। এটি শিশুর হৃদস্পন্দনের সরাসরি
প্রমাণ নয়।
তাই নিজের হাতে পেটের ওপর স্পন্দন অনুভব করে শিশুর হার্টবিট হয়েছে কি না
নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শিশুর হৃদস্পন্দন সম্পর্কে জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ
অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো বেশি নির্ভরযোগ্য।
বমি বমি ভাব বা গর্ভাবস্থার লক্ষণ কি হার্টবিটের সঙ্গে সম্পর্কিত
গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে বমি বমি ভাব ও বমি হওয়া খুব পরিচিত একটি অভিজ্ঞতা।
অনেকের আবার খাবারের গন্ধে অস্বস্তি, ক্লান্তি কিংবা ঘুম ঘুম ভাবও হতে পারে।এসব
লক্ষণ দেখে শিশুর হার্টবিট সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। কারণ গর্ভাবস্থার
উপসর্গ মূলত মায়ের শরীরে হরমোনের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন স্বাভাবিক পরিবর্তনের
কারণে হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ দ্রুত পেটের গ্যাস কমানোর ঘরোয়া উপায়
একজন মায়ের অনেক উপসর্গ থাকতে পারে, অন্যজনের খুব কম থাকতে পারে তবুও দুজনের
গর্ভাবস্থার অবস্থা একই রকম হতে পারে। তাই শুধুমাত্র উপসর্গের ওপর নির্ভর করে
শিশুর হৃদস্পন্দন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কোনো উপসর্গ নিয়ে
দুশ্চিন্তা হলে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলাই
নিরাপদ।
আল্ট্রাসনোগ্রামে বাচ্চার হার্টবিট কীভাবে বোঝা যায়
শিশুর হৃদস্পন্দন সম্পর্কে জানার জন্য চিকিৎসক প্রয়োজনে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে
পারেন। গর্ভাবস্থার পর্যায় অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের আল্ট্রাসনোগ্রাম ব্যবহার
করা হতে পারে। পরীক্ষার সময় চিকিৎসক শিশুর অবস্থান, গর্ভাবস্থার সময়কাল এবং
অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করেন। খুব তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করলে হৃদস্পন্দন
স্পষ্টভাবে দেখা নাও যেতে পারে।
তাই রিপোর্টে প্রত্যাশিত সময়ে হৃদস্পন্দন না দেখা গেলে নিজের মতো করে কোনো
সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে রিপোর্টটি আলোচনা করা উচিত।
প্রথম আল্ট্রাসনোগ্রামে হার্টবিট না দেখা গেলে কি চিন্তার কারণ
প্রথম দিকের আল্ট্রাসনোগ্রামে শিশুর হৃদস্পন্দন দেখা না গেলেই যে গর্ভাবস্থায়
সমস্যা হয়েছে, তা সবসময় নয়।গর্ভাবস্থার সপ্তাহের হিসাব কয়েক দিন এদিক-সেদিক
হতে পারে। ডিম্বস্ফোটন বা গর্ভধারণের সময় অনুমানের চেয়ে কিছুটা পরে হলে
প্রকৃত গর্ভকালও কম হতে পারে। ফলে খুব তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করলে হৃদস্পন্দন দেখা
নাও যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী কিছুদিন পর আবার পরীক্ষা করতে বলতে
পারেন। তাই একটি রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিজে থেকে ভয় পাওয়া উচিত নয়।তবে
রিপোর্টে কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে সেটি অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে
হবে।
শিশুর হার্টবিট ঠিক আছে কি না কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়
শিশুর হৃদস্পন্দন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো
গর্ভাবস্থার সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা। পেটের আকার, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা, স্তনে পরিবর্তন
কিংবা পেটের ভেতরে কোনো স্পন্দন অনুভব করার মাধ্যমে শিশুর হার্টবিট সম্পর্কে
নিশ্চিত হওয়া যায় না।
গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেকআপ করা এবং চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ অনুসরণ করা
গুরুত্বপূর্ণ। কোনো রিপোর্টে হার্টবিট দেখা যাচ্ছে না বা রিপোর্টের কোনো অংশ
বুঝতে পারছেন না এমন হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।
গর্ভাবস্থায় কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
গর্ভাবস্থায় কিছু অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
যেমন অতিরিক্ত রক্তপাত, তীব্র বা বাড়তে থাকা পেটব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান
হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।তবে শুধু
বমি বমি ভাব কমে যাওয়া, কোনো একটি উপসর্গের পরিবর্তন হওয়া বা পেটে ধুকপুক
অনুভব না হওয়াকে শিশুর হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া
ঠিক নয়।
আরো পড়ুনঃ চুল পড়া বন্ধ করার উপায়
প্রত্যেক গর্ভাবস্থা আলাদা। তাই ইন্টারনেটে পড়া কোনো একটি লক্ষণের সঙ্গে নিজের
পরিস্থিতি মিলিয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই নিরাপদ।
গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্টবিট নিয়ে শেষ কথা
এই আর্টিকেলে গর্ভাবস্থা ও শিশুর হার্টবিট সম্পর্কে সাধারণ তথ্য সহজ ভাষায় তুলে
ধরা হয়েছে। এটি কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।
প্রত্যেক গর্ভাবস্থার পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। তাই আপনার গর্ভাবস্থা,
আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট বা শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে অবশ্যই একজন
যোগ্য চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কারীর পরামর্শ নিন।



সামিউল আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url