সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ কি

সর্দি-কাশির সময় নাক দিয়ে রক্ত পড়লে অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েন। তবে সর্দির সঙ্গে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার পেছনে সবসময় গুরুতর কোনো কারণ থাকে না। নাকের ভেতর শুষ্ক হয়ে যাওয়া, বারবার নাক ঝাড়া, অতিরিক্ত হাঁচি, অ্যালার্জি বা নাকের ভেতরে প্রদাহের কারণে এমনটি হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে অন্য শারীরিক সমস্যার কারণেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।

সর্দির-সাথে-নাক-দিয়ে-রক্ত-পড়ার-কারণ-কি

কখন এটি স্বাভাবিক এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি এসব বিষয় জানা গুরুত্বপূর্ণ। এই আর্টিকেলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সম্ভাব্য কারণ, তাৎক্ষণিক করণীয় এবং প্রতিরোধের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ কি

সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়া প্রতিরোধের উপায়

সর্দির সময় নাক দিয়ে রক্ত পড়ার ঝুঁকি কমাতে নাকের ভেতরের শুষ্কতা এড়ানোর চেষ্টা করা, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করা এবং নাক জোরে না ঝাড়া গুরুত্বপূর্ণ। ধুলাবালি ও ধোঁয়ার কারণে অ্যালার্জির সমস্যা হলে এগুলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা যেতে পারে।
সর্দির-সাথে-নাক-দিয়ে-রক্ত-পড়া-প্রতিরোধের-উপায়
নাক পরিষ্কার করার সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়। নাকের ভেতরে কোনো মলম, ড্রপ বা অন্য কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। যাদের বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়ে, তাদের কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শিশুদের সর্দির সঙ্গে নাক দিয়ে রক্ত পড়লে

শিশুদের সর্দির সময় নাক দিয়ে সামান্য রক্ত পড়তে পারে। নাকের ভেতরে আঙুল দেওয়া, নাক ঘষা, শুষ্কতা, অ্যালার্জি এবং বারবার নাক পরিষ্কার করার কারণে এমনটি হতে পারে।শিশুর নাক দিয়ে রক্ত পড়লে তাকে শান্ত রেখে সোজা বসানো এবং মাথা সামান্য সামনে ঝুঁকিয়ে রাখা ভালো। নাকের নরম অংশ আলতোভাবে চেপে ধরে রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

রক্তপাত বেশি হলে, দীর্ঘ সময় ধরে চললে বা বারবার হলে শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত।

নাকে আঘাত বা নাকের ভেতরে হাত দেওয়া

নাকের ভেতরে আঙুল দেওয়া, নাক চুলকানো বা খোসা টেনে তোলার অভ্যাস থেকেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। সর্দির সময় নাকের ভেতরের অংশ আরও সংবেদনশীল থাকায় সামান্য আঘাতেও রক্তপাত হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ গ্যাস্ট্রোলিভার রোগের লক্ষণ

বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে নাকে হাত দেওয়ার অভ্যাসের কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। তাই নাকের ভেতরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হাত না দেওয়া এবং নাক পরিষ্কার করার সময় সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

নাকের ভেতরে সংক্রমণ ও প্রদাহ

সর্দি অনেক সময় ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের অংশ হতে পারে। সংক্রমণের সময় নাকের ভেতরের টিস্যুতে প্রদাহ ও জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। নাক বন্ধ হয়ে গেলে বারবার নাক পরিষ্কার করার প্রয়োজন হয়।

এভাবে বারবার পরিষ্কার করা বা নাক ঝাড়ার কারণে নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সামান্য রক্তপাত হতে পারে। তবে সর্দির পাশাপাশি উচ্চ জ্বর, তীব্র মুখমণ্ডলের ব্যথা বা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নাকের ভেতর শুষ্ক হয়ে যাওয়া

নাকের ভেতর শুষ্ক হয়ে যাওয়া

সর্দির সময় নাকের ভেতরের আবরণে শুষ্কতা তৈরি হতে পারে। ঠান্ডা বা শুষ্ক আবহাওয়া এবং ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলেও নাকের ভেতরের অংশ শুকিয়ে যেতে পারে। এতে নাকের ভেতরের ত্বক সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং সামান্য ঘর্ষণেও রক্তপাত হতে পারে।

শুষ্কতার কারণে নাকের ভেতরে খোসা তৈরি হতে পারে। নাক পরিষ্কার করার সময় সেই খোসা উঠে গেলে ছোট রক্তনালি থেকে অল্প রক্ত বের হতে পারে। তাই নাকের ভেতরে আঙুল দিয়ে খোঁচানো বা খোসা জোর করে তুলে ফেলা এড়িয়ে চলা ভালো।

সর্দির সময় কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন

সর্দির সঙ্গে নাক দিয়ে রক্ত পড়লে কিছু অভ্যাস পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। যেমন
  • জোরে জোরে নাক ঝাড়া।
  • নাকের ভেতরে আঙুল দেওয়া।
  • নাকের খোসা টেনে তোলা।
  • বারবার নাক ঘষা।
  • রক্তপাতের সময় নাকের ভেতরে কিছু ঢোকানো।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নাকে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করা।
নাক পরিষ্কার করার সময় যতটা সম্ভব ধীরে ও কোমলভাবে পরিষ্কার করা উচিত। নাকের শুষ্কতা বা অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

কখন নাক দিয়ে রক্ত পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

একবার অল্প পরিমাণ রক্ত পড়ে দ্রুত বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণত খুব বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু রক্তপাত যদি বারবার হয় বা সহজে বন্ধ না হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে রক্তপাতের পরিমাণ বেশি হলে, নাক বা মাথায় আঘাতের পর রক্ত পড়লে, শরীরের অন্য কোথাও অস্বাভাবিক রক্তপাত দেখা দিলে বা সহজেই কালশিটে পড়ার মতো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের মাধ্যমে কারণ যাচাই করা উচিত।

অ্যালার্জি ও অতিরিক্ত হাঁচি

ধুলাবালি, পরাগকণা, ধোঁয়া বা অন্য কোনো অ্যালার্জেনের কারণে নাকে অ্যালার্জি হতে পারে। এর ফলে বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া এবং নাক চুলকানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুনঃ চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

বারবার হাঁচি দেওয়া বা নাক ঘষার কারণে নাকের ভেতরের সংবেদনশীল অংশে জ্বালা বা সামান্য আঘাত হতে পারে। ফলে সর্দির সঙ্গে নাক দিয়ে অল্প রক্ত পড়তে পারে। অ্যালার্জির সমস্যা বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

নাক দিয়ে রক্ত পড়লে তাৎক্ষণিক কী করবেন

নাক দিয়ে রক্ত পড়লে প্রথমে শান্ত থাকা জরুরি। সোজা হয়ে বসে মাথা সামান্য সামনে ঝুঁকিয়ে রাখুন। এরপর নাকের নরম অংশটি আঙুল দিয়ে কয়েক মিনিট চেপে ধরে রাখুন।রক্তপাতের সময় মাথা পেছনের দিকে হেলিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এতে রক্ত গলার দিকে চলে যেতে পারে। 
নাক-দিয়ে-রক্ত-পড়লে-তাৎক্ষণিক-কী-করবেন
একই সময়ে নাক জোরে ঝাড়া, নাকের ভেতরে আঙুল দেওয়া বা কোনো বস্তু ঢোকানো এড়িয়ে চলুন।
রক্তপাত বন্ধ না হলে বা রক্তপাতের পরিমাণ বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার পেছনে অনেক সময় নাকের ভেতরের শুষ্কতা, অ্যালার্জি, প্রদাহ, বারবার নাক ঝাড়া বা নাকে সামান্য আঘাতের মতো সাধারণ কারণ থাকতে পারে। তাই একবার অল্প রক্ত পড়লেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।তবে রক্তপাত বেশি হলে, দীর্ঘ সময় ধরে চললে, বারবার হলে অথবা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গের সঙ্গে দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক কারণ জানা এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়াই নিরাপদ।

লেখকের মন্তব্য: স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কোনো সমস্যায় নিজের মতো করে ওষুধ ব্যবহার না করে প্রয়োজনে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই আর্টিকেলটি সাধারণ তথ্যের জন্য লেখা; এটি কোনো রোগ নির্ণয় বা ব্যক্তিগত চিকিৎসার বিকল্প নয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সামিউল আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url