পাসপোর্ট হয়েছে কিনা চেক করার নিয়ম
বর্তমানে বিদেশ ভ্রমণ, পড়াশোনা, চাকরি, চিকিৎসা কিংবা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক
কাজে পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার পর অনেকের মনেই
প্রশ্ন থাকে আমার পাসপোর্টের কাজ কতদূর এগিয়েছে? পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে কি না?
কখন হাতে পাব? এসব তথ্য জানার জন্য সব সময় পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার
প্রয়োজন হয় না। অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন স্ট্যাটাস যাচাই করে ঘরে বসেই আবেদনের
বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যায়। বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের আবেদন করার
সময় আবেদন কারীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে Online
Registration ID (OID), আবেদন সংক্রান্ত তথ্য এবং জন্ম তারিখের মতো তথ্য
পরবর্তীতে স্ট্যাটাস যাচাইয়ের কাজে প্রয়োজন হতে পারে। সরকারি ই-পাসপোর্টের
আবেদন ফরমেও Online Registration ID এবং অন্যান্য আবেদন সংক্রান্ত তথ্যের
ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে অনলাইনে পাসপোর্টের স্ট্যাটাস দেখার সময় একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি আবেদনের
প্রতিটি ধাপ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায় না। আবেদন গ্রহণ,
যাচাই, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া, প্রিন্টিং এবং বিতরণের মতো বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম
করতে হতে পারে। তাই স্ট্যাটাসে যে তথ্য দেখানো হচ্ছে তার অর্থ বোঝা
গুরুত্বপূর্ণ।এই প্রতিবেদনে পাসপোর্ট হয়েছে কিনা চেক করার নিয়ম, কী কী তথ্য
প্রয়োজন, অনলাইনে কীভাবে স্ট্যাটাস দেখতে হয়, বিভিন্ন স্ট্যাটাসের সাধারণ অর্থ,
স্ট্যাটাস আপডেট না হলে কী করবেন এবং পাসপোর্ট সংগ্রহের আগে কোন বিষয়গুলো খেয়াল
রাখা উচিত এসব বিষয় সহজ ভাষায় বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হলো।
পোস্ট সূচিপত্রঃপাসপোর্ট হয়েছে কিনা চেক করার নিয়ম
- পাসপোর্ট হয়েছে কিনা চেক করার নিয়ম
- পাসপোর্টের স্ট্যাটাস কী এবং কেন এটি চেক করবেন
- পাসপোর্টের স্ট্যাটাস চেক করতে কী কী তথ্য লাগবে
- মোবাইল দিয়ে অনলাইনে পাসপোর্টের স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম
- পাসপোর্ট হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন
- পাসপোর্টের স্ট্যাটাসে ইংরেজি লেখা থাকলে তার অর্থ কী
- অনলাইনে পাসপোর্টের স্ট্যাটাস দেখা না গেলে কী করবেন
- পাসপোর্টের আবেদন নম্বর বা Online Registration ID কোথায় পাবেন
- পাসপোর্ট তৈরি হওয়ার পর কখন এবং কীভাবে সংগ্রহ করবেন
- পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার সময় যেসব ভুল করবেন না
- পাসপোর্টের স্ট্যাটাস চেক করার পুরো প্রক্রিয়া একসঙ্গে বুঝে নিন
- শেষ কথাঃ লেখার মন্তব্য
পাসপোর্ট হয়েছে কিনা চেক করার নিয়ম
পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার পর সবার মনেই একটি প্রশ্ন থাকে আমার পাসপোর্ট তৈরি
হয়েছে কি না? অথবা পাসপোর্ট এখন কোন অবস্থায় আছে? আগে এই তথ্য জানতে পাসপোর্ট
অফিসে গিয়ে খোঁজ নিতে হতো। বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে অনেক সহজেই পাসপোর্টের
আবেদনের অবস্থা জানা যায়।আপনি যদি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে থাকেন, তাহলে
বাড়িতে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে আপনার আবেদনের স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন।
এজন্য আপনার কাছে থাকা আবেদন সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করতে হবে।
অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখার বিষয়টি কঠিন নয়। তবে প্রথম বার করার সময় অনেকেই
বুঝতে পারেন না কোথায় যেতে হবে, কোন তথ্য দিতে হবে এবং স্ট্যাটাসে কী লেখা
থাকলে বুঝবেন যে পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে।এই লেখায় আমরা খুব সহজ ভাষায় শুরু থেকে
শেষ পর্যন্ত বিষয়টি বুঝিয়ে বলব। আগে পাসপোর্টের আবেদনের অবস্থা জানতে হলে
সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে খোঁজ নিতে হতো। বর্তমানে অনলাইন সেবার কারণে এই কাজ অনেক
সহজ হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকা একটি মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে
পাসপোর্টের আবেদন সংক্রান্ত তথ্য দেখা যায়।
তবে অনেক সাধারণ মানুষ প্রথমবার পাসপোর্টের স্ট্যাটাস দেখতে গিয়ে বুঝতে পারেন না কোথায় যেতে হবে, কোন তথ্য দিতে হবে, স্ট্যাটাসে কী লেখা থাকলে পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় এবং অনলাইনে তথ্য না এলে কী করা উচিত।
পাসপোর্টের স্ট্যাটাস কী এবং কেন এটি চেক করবেন
প্রথমে জানা দরকার, পাসপোর্টের স্ট্যাটাস বলতে কী বোঝায়। খুব সহজ ভাবে বললে,
আপনি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার পর আপনার আবেদনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে
রয়েছে, সেটিই হলো আবেদনের স্ট্যাটাস।পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার পর সঙ্গে
সঙ্গে পাসপোর্ট হাতে চলে আসে না। আবেদনটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে
এগিয়ে যায়। আবেদন গ্রহণ করা, তথ্য যাচাই করা, প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা,
পাসপোর্ট তৈরি বা প্রিন্ট করা এবং পরে সেটি বিতরণের মতো ধাপ থাকতে পারে।
এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে আপনার আবেদনটি বর্তমানে কোথায় আছে, সেটি জানার জন্য
স্ট্যাটাস চেক করা হয়।ধরুন, আপনি কিছুদিন আগে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন।
এখন আপনার জানতে ইচ্ছা করছে পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে কি না। শুধু অনুমান করে বোঝার
কোনো উপায় নেই। অনলাইনে আবেদনটির স্ট্যাটাস দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার
আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন আছে, নাকি পরবর্তী কোনো ধাপে চলে গেছে।
এতে একটি সুবিধা হলো, অযথা বারবার পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন
কমে যায়। ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য দেখা সম্ভব
হয়।তবে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখা মানেই সব সময়
পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ জানা যাবে, এমন নয়। স্ট্যাটাস মূলত
আবেদনের বর্তমান অবস্থার একটি ধারণা দেয়।
পাসপোর্টের স্ট্যাটাস চেক করতে কী কী তথ্য লাগবে
অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন খুঁজে বের করার জন্য আপনার আবেদন সংক্রান্ত কিছু তথ্য
প্রয়োজন হতে পারে। এসব তথ্য পাসপোর্টের আবেদন করার সময় পাওয়া কাগজ পত্রে
থাকে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার Online Registration ID বা OID এবং
আবেদন করার সময় ব্যবহৃত অন্যান্য তথ্য। সরকারি ই-পাসপোর্টের আবেদন ফরমেও
Online Registration ID-এর জন্য নির্দিষ্ট ঘর রয়েছে।
এছাড়া আপনার জন্মতারিখ জানা থাকা দরকার। কারণ স্ট্যাটাস দেখার সময় পরিচয়
যাচাইয়ের জন্য জন্ম তারিখ ব্যবহার করতে হতে পারে।আপনি যখন পাসপোর্টের জন্য
আবেদন করেছিলেন, তখন যে আবেদন কপি, রসিদ বা ডেলিভারি স্লিপ পেয়েছেন, সেগুলো
খুঁজে বের করুন। সেখানে থাকা তথ্য দেখে অনলাইনে তথ্য পূরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।
যেসব তথ্য কাছে রাখবেন
- Online Registration ID বা প্রয়োজনীয় আবেদন নম্বর
- আবেদনকারীর জন্মতারিখ
- আবেদন করার কাগজপত্র
- ডেলিভারি স্লিপ বা রসিদ
- প্রয়োজন হলে আবেদনসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য
অনেকেই আবেদন করার পর কাগজপত্র কোথায় রেখেছেন তা ভুলে যান। পরে স্ট্যাটাস
দেখার সময় সমস্যায় পড়েন। তাই পাসপোর্টের আবেদন করার পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ
কাগজপত্র একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিরাপদে রাখা উচিত।আপনার আবেদন সংক্রান্ত
তথ্য অন্যের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ভাবে শেয়ার করবেন না। বিশেষ করে সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন।
মোবাইল দিয়ে অনলাইনে পাসপোর্টের স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম
বর্তমানে স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনেক সরকারি অনলাইন সেবা নেওয়া যায়। তাই
পাসপোর্টের আবেদন সংক্রান্ত স্ট্যাটাস দেখার জন্য সব সময় কম্পিউটারের প্রয়োজন
হয় না।প্রথমে আপনার মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ চালু করুন। এরপর Chrome বা অন্য
কোনো নির্ভরযোগ্য ব্রাউজার খুলুন।রপর বাংলাদেশের সরকারি ই-পাসপোর্টের অনলাইন
সেবায় প্রবেশ করুন। পাসপোর্টের স্ট্যাটাস দেখার জন্য সরকারি প্ল্যাটফর্মে যে
নির্দেশনা দেওয়া আছে, সেটি অনুসরণ করুন।স্ট্যাটাস যাচাইয়ের পেজে যে তথ্য
চাওয়া হবে, সেগুলো আপনার আবেদনপত্র বা রসিদ দেখে সঠিক ভাবে লিখুন।
তথ্য দেওয়ার সময় তাড়া হুড়ো করবেন না। একটি সংখ্যা ভুল হলে আপনার আবেদন
খুঁজে পেতে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে Online Registration ID এবং জন্ম তারিখ
ভালো ভাবে মিলিয়ে লিখুন।সব তথ্য দেওয়ার পর নির্দিষ্ট বাটনে ক্লিক করলে আপনার
আবেদনের বর্তমান অবস্থা স্ক্রিনে দেখা যেতে পারে।যদি প্রথম বার করতে গিয়ে কোনো
সমস্যা হয়, তাহলে আবার ধীরে ধীরে চেষ্টা করুন। ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল থাকলে
বা সরকারি ওয়েবসাইটে সাময়িক সমস্যা থাকলেও তথ্য দেখাতে দেরি হতে পারে।
পাসপোর্ট হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন
পাসপোর্টের স্ট্যাটাস দেখার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেখানে কী বোঝানো
হয়েছে সেটি বুঝতে পারা।আপনার আবেদন যদি এখনো প্রক্রিয়াধীন থাকে, তাহলে
সাধারণভাবে বুঝতে হবে আবেদনটির কাজ পুরো পুরি শেষ হয়নি। অর্থাৎ পাসপোর্ট হাতে
পাওয়ার পর্যায়ে এখনো পৌঁছায়নি। আবার আবেদনের কাজ এগিয়ে গেলে স্ট্যাটাসেও
পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। পাসপোর্ট তৈরি বা প্রিন্টিং এবং পরবর্তী বিতরণ
সংক্রান্ত ধাপের দিকে এগিয়ে গেলে সেটি স্ট্যাটাসে প্রতিফলিত হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুধু কোনো একটি ইংরেজি শব্দ দেখে নিজের
মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।কারণ আবেদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপের জন্য
আলাদা স্ট্যাটাস থাকতে পারে। কোনো স্ট্যাটাসের অর্থ বুঝতে সমস্যা হলে সরকারি
নির্দেশনা অনুসরণ করুন অথবা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের কাছ থেকে নিশ্চিত তথ্য
নিন। পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে কি না বোঝার পাশা পাশি পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য
প্রস্তুত কি না, সেটিও আলাদা বিষয়। তাই স্ট্যাটাস দেখার পর সংশ্লিষ্ট
নির্দেশনাটি ভালোভাবে পড়া উচিত।
পাসপোর্টের স্ট্যাটাসে ইংরেজি লেখা থাকলে তার অর্থ কী
অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন স্ট্যাটাস দেখার সময় অনেকের স্ক্রিনে ইংরেজি ভাষায়
বিভিন্ন শব্দ বা বাক্য দেখা যায়। যারা ইংরেজিতে খুব বেশি অভ্যস্ত নন, তাদের
কাছে বিষয়টি কঠিন মনে হতে পারে।আসলে এসব শব্দ সাধারণত আপনার আবেদনের বর্তমান
অবস্থাকে বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।উদাহরণ হিসেবে, কোনো স্ট্যাটাসে বোঝানো
হতে পারে আপনার আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন। আবার কোনো অবস্থায় বোঝাতে পারে যে
আবেদনটি পরবর্তী ধাপে চলে গেছে। কখনো আবেদন প্রক্রিয়ার কোনো একটি নির্দিষ্ট
কাজ শেষ হয়েছে, এমন তথ্যও দেখা যেতে পারে।
তাই শুধু একটি শব্দ দেখে পুরো আবেদন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত না নিয়ে স্ট্যাটাসের
সম্পূর্ণ অর্থ বোঝার চেষ্টা করতে হবে।যদি কোনো ইংরেজি শব্দ বুঝতে না পারেন,
সেটি অনুবাদ করে অর্থ জানতে পারেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজের ক্ষেত্রে
শুধু অনলাইন অনুবাদের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ
থেকে নিশ্চিত তথ্য নেওয়া ভালো।মনে রাখবেন, স্ট্যাটাসের প্রতিটি ধাপের অর্থ
আলাদা হতে পারে। তাই আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য বুঝতে
হবে।
অনলাইনে পাসপোর্টের স্ট্যাটাস দেখা না গেলে কী করবেন
অনেক সময় আবেদন কারী সঠিক তথ্য দেওয়ার পরও অনলাইনে প্রত্যাশিত তথ্য দেখতে পান
না। এমন হলে প্রথমেই চিন্তা করার দরকার নেই।প্রথমে আপনার আবেদনসংক্রান্ত তথ্য
আবার পরীক্ষা করুন। Online Registration ID বা অন্য কোনো নম্বর টাইপ করার সময়
একটি সংখ্যা ভুল হয়েছে কি না দেখুন।জন্মতারিখও আবেদনপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
জন্মতারিখ লেখার সময় দিন, মাস বা বছরের কোনো অংশ ভুল হলে সমস্যা হতে পারে।সব
তথ্য সঠিক থাকার পরও যদি স্ট্যাটাস না আসে, তাহলে কিছু সময় পরে আবার চেষ্টা
করতে পারেন।
কখনো অনলাইন সিস্টেমে সাময়িক সমস্যা বা তথ্য আপডেটের কারণে ফলাফল দেখাতে দেরি
হতে পারে।তবে অনেক দিন ধরে একই সমস্যা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
আপনার কাছে থাকা আবেদন কপি, রসিদ বা ডেলিভারি স্লিপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট
অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।কেউ যদি বলে টাকা দিলে অনলাইনে আপনার স্ট্যাটাস ঠিক
করে দেবে, তাহলে সতর্ক থাকুন। সরকারি আবেদনের তথ্য নিয়ে অপরিচিত ব্যক্তির ওপর
নির্ভর করা নিরাপদ নয়।
পাসপোর্টের আবেদন নম্বর বা Online Registration ID কোথায় পাবেন
পাসপোর্টের আবেদন করার পর আপনি যে কাগজপত্র পেয়েছেন, সেখানে আপনার আবেদন
সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।আপনার কাছে থাকা আবেদন কপি ভালোভাবে
দেখুন। সেখানে Online Registration ID বা অন্যান্য আবেদনসংক্রান্ত নম্বর থাকতে
পারে।এছাড়া আবেদন করার পর পাওয়া রসিদ বা ডেলিভারি স্লিপও পরীক্ষা করুন।
প্রয়োজনীয় তথ্য কোন কাগজে রয়েছে তা আবেদন ভেদে আলাদা হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ
অনেকের একটি সমস্যা হয় আবেদন করার কয়েকদিন পর কাগজপত্র হারিয়ে ফেলেন। ফলে
পরে অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখতে গিয়ে আবেদন নম্বর খুঁজে পান না।এ কারণে আবেদন
করার পর কাগজ পত্র একটি ফাইল বা নির্দিষ্ট খামে সংরক্ষণ করা ভালো। চাইলে নিজের
নিরাপদ ব্যবহারের জন্য কাগজের ছবি তুলে রাখতে পারেন।তবে ফোনে ছবি রাখলেও সেটি
যেন অন্য কেউ সহজে দেখতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। পাসপোর্টের আবেদন
সংক্রান্ত তথ্য ব্যক্তিগত তথ্যের অংশ, তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে কারও সঙ্গে শেয়ার
করা উচিত নয়।
পাসপোর্ট তৈরি হওয়ার পর কখন এবং কীভাবে সংগ্রহ করবেন
পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সেটি আবেদন কারীকে নির্ধারিত
পদ্ধতিতে দেওয়া হয়। আপনি যখন আবেদন করেছিলেন, তখন যে ডেলিভারি পদ্ধতি
নির্বাচন করা হয়েছে, তার ওপর সংগ্রহের ব্যবস্থা নির্ভর করতে পারে।তাই পাসপোর্ট
তৈরি হয়েছে মনে হলেই সরাসরি অফিসে যাওয়ার আগে আপনার আবেদন সংক্রান্ত
নির্দেশনা দেখে নেওয়া ভালো।
আপনার কাছে থাকা ডেলিভারি স্লিপ বা আবেদন রসিদ সঙ্গে রাখুন। প্রয়োজনীয়
পরিচয়পত্র বা অন্য কোনো কাগজ লাগতে পারে, তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেখে নিন।পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় কোনো সমস্যা হলে সেখানে
উপস্থিত দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সেটি
ব্যাগে রেখে চলে যাবেন না। প্রথমে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ
তথ্যগুলো পরীক্ষা করুন।
যেমন
- নামের বানান ঠিক আছে কি না
- জন্মতারিখ সঠিক কি না
- ছবিটি সঠিকভাবে রয়েছে কি না
- অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ঠিক আছে কি না
কোনো ভুল থাকলে বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। পরে বিদেশ
ভ্রমণের সময় ভুল তথ্য নিয়ে সমস্যায় পড়ার চেয়ে আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো।
পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার সময় যেসব ভুল করবেন না
পাসপোর্টের স্ট্যাটাস দেখা সহজ হলেও কিছু ভুলের কারণে অপ্রয়োজনীয় সমস্যা হতে
পারে।প্রথম ভুল হলো অননুমোদিত ওয়েবসাইট ব্যবহার করা। ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের
ওয়েবসাইট দেখা যেতে পারে। তাই পাসপোর্টের ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে নিশ্চিত
হয়ে নিন যে আপনি সরকারি সেবার সঠিক প্ল্যাটফর্মে আছেন।দ্বিতীয় ভুল হলো আবেদন
নম্বর ভুল লেখা। একটি সংখ্যা ভুল হলে সঠিক আবেদনটি খুঁজে পাওয়া নাও যেতে পারে।
তৃতীয় ভুল হলো জন্ম তারিখ ভুল দেওয়া। আবেদন করার সময় যে জন্ম তারিখ দেওয়া
হয়েছে, সেটিই ব্যবহার করা উচিত।চতুর্থ ভুল হলো স্ট্যাটাস পরিবর্তন না হলে
সঙ্গে সঙ্গে ধরে নেওয়া যে আবেদন আটকে গেছে। সব আবেদন একই সময়ে একই গতিতে
এগোয় না। তাই নির্ধারিত প্রক্রিয়ার সময় বিবেচনা করা দরকার।পঞ্চম ভুল হলো
অপরিচিত ব্যক্তিকে টাকা দেওয়া।
কেউ যদি দাবি করে যে সে বিশেষ ভাবে আপনার পাসপোর্ট দ্রুত তৈরি করে দিতে পারবে,
তাহলে তার কথায় বিশ্বাস করার আগে সতর্ক হোন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো
নিজের পাসপোর্টের তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট না করা। এতে ব্যক্তিগত
তথ্য অন্যের হাতে চলে যেতে পারে।
পাসপোর্টের স্ট্যাটাস চেক করার পুরো প্রক্রিয়া একসঙ্গে বুঝে নিন
এতক্ষণে বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে জানলাম। এখন পুরো প্রক্রিয়াটি খুব সহজ ভাবে
একসঙ্গে দেখে নেওয়া যাক। প্রথমে আপনার পাসপোর্টের আবেদন করার সময় পাওয়া কাগজ
পত্র বের করুন। সেখানে থাকা Online Registration ID বা প্রয়োজনীয় আবেদন
সংক্রান্ত তথ্য খুঁজে নিন।এরপর আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে ইন্টারনেট চালু
করুন। সরকারি ই-পাসপোর্টের অনলাইন সেবায় প্রবেশ করুন।
স্ট্যাটাস যাচাইয়ের জন্য যে তথ্য চাওয়া হবে, আপনার আবেদন পত্র দেখে সঠিক ভাবে
লিখুন। তথ্য দেওয়ার পর একবার ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।তারপর স্ট্যাটাস দেখার
অপশনে ক্লিক করুন। স্ক্রিনে আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখতে পাবেন।
স্ট্যাটাস যদি প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় থাকে, তাহলে বুঝবেন আবেদনটির কাজ এখনো
চলছে। আবেদনের পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ট্যাটাস পরিবর্তন
হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ
যদি স্ট্যাটাসে এমন কোনো তথ্য দেখায় যার অর্থ আপনি বুঝতে পারছেন না, তাহলে
অনুমান করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।আর যদি দীর্ঘ
সময় ধরে কোনো তথ্য না আসে বা আপনার আবেদনে কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয়, তাহলে
আবেদন সংক্রান্ত কাগজ পত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ
করুন।সবশেষে, পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সেটির তথ্য পরীক্ষা করুন এবং নিরাপদ
স্থানে সংরক্ষণ করুন।
শেষ কথাঃ লেখার মন্তব্য
পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার পর সেটি হয়েছে কিনা বা বর্তমানে কোন অবস্থায়
রয়েছে এই তথ্য জানার জন্য এখন আর সব সময় অফিসে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার দরকার হয়
না। অনলাইনে সরকারি সেবার মাধ্যমে আবেদন সংক্রান্ত স্ট্যাটাস যাচাই করা যায়।
তবে অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করার আগে আপনার আবেদন সংক্রান্ত তথ্য হাতের কাছে
রাখা জরুরি। Online Registration ID, জন্ম তারিখ এবং আবেদন কাগজ পত্র সঠিকভাবে
ব্যবহার করলে স্ট্যাটাস যাচাইয়ের কাজ সহজ হয়।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,
পাসপোর্টের স্ট্যাটাস দেখার সময় শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম
ব্যবহার করা।
কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটের কাছে পাসপোর্টের তথ্য দেওয়া
উচিত নয়।আবেদনের স্ট্যাটাস কিছুদিন একই থাকলেও অযথা চিন্তা করবেন না। পাসপোর্ট
তৈরির প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধাপ থাকতে পারে এবং সব ধাপ একই সময়ে সম্পন্ন হয়
না। তবে দীর্ঘ সময় কোনো পরিবর্তন না হলে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করে
সঠিক তথ্য জেনে নেওয়া ভালো। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পরও কিছু সময় নিয়ে নাম,
জন্মতারিখ, ছবি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরীক্ষা করুন। কোনো ভুল থাকলে
দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।



সামিউল আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url